রিঅ্যাকশন টাইম টেস্ট

রিঅ্যাকশন টাইম টেস্ট: স্ক্রিন সবুজ হওয়ার কত মিলিসেকেন্ড পর তুমি ট্যাপ করো?

রিঅ্যাকশন টেস্ট শুরু করো

সাইনআপ নেই · যেখানে খুশি শেয়ার করো

স্লিপে দাঁড়িয়ে ক্যাচ ধরা, মোড়ে হঠাৎ রিকশা এসে পড়লে ব্রেক চাপা, বা ফ্রি ফায়ারে প্রতিপক্ষ ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই গুলি চালানো, সবকিছুর পেছনে একটাই জিনিস: তোমার চোখ কিছু দেখার পর হাত কত দ্রুত সাড়া দেয়। এই রিঅ্যাকশন টাইম টেস্ট ঠিক সেটাই মাপে, মিলিসেকেন্ডে। স্ক্রিন লাল হয়ে থাকে, তুমি অপেক্ষা করো, যে মুহূর্তে সবুজ হয় ট্যাপ করো। পাঁচ রাউন্ড, তারপর গড় আর সেরা সময়।

সাধারণ মানুষের গড় প্রায় ২৫০ মিলিসেকেন্ড, মানে সেকেন্ডের চার ভাগের এক ভাগ। ২০০-এর নিচে নামলে তুমি বেশিরভাগ মানুষের চেয়ে দ্রুত, ১৮০-এর নিচে পেশাদার গেমারদের জগতে। রেজাল্টে ছয়টা লেভেলের একটা পাবে, সুপারহিউম্যান থেকে স্লথ মোড পর্যন্ত, আর একটা লিংক যেটা দিয়ে বন্ধুকে বলতে পারো, আমি ২১৪, তুই পারলে হারিয়ে দেখা। কোনো অ্যাপ লাগে না, ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজারেই চলে।

1 লাল স্ক্রিন সবুজ হওয়ার অপেক্ষা করো
2 যত দ্রুত পারো ট্যাপ করো, পাঁচবার
3 তোমার গড় রিঅ্যাকশন টাইম জানো আর শেয়ার করো

রিঅ্যাকশন টাইম টেস্ট আসলে কী মাপে?

রং বদলানোটা চোখ দেখল, মস্তিষ্ক বুঝল, আঙুলে সংকেত গেল, আঙুল স্ক্রিন ছুঁলো, এই পুরো পথটুকুর সময়। এটাকে সরল রিঅ্যাকশন টাইম বলে, কারণ ভাবার কিছু নেই, শুধু একটা সংকেতে একটা সাড়া।

খেলোয়াড়, গেমার, ড্রাইভার আর যারা শুধু জানতে চায় রাত জাগার পর মাথা কতটা ধীর হয়েছে, সবার জন্যই এটা একটা দ্রুত আর মজার মাপকাঠি। বয়সের সাথে সময়টা একটু বাড়ে, তাই বাবা-ছেলের লড়াইটাও দেখার মতো।

রিঅ্যাকশন টাইম টেস্টের ছবি: একটি বিদ্যুৎ চিহ্ন, একটি স্টপওয়াচ, একটি বুলসআই আর একটি সবুজ বৃত্ত

পাঁচ রাউন্ডের টেস্টটা কীভাবে দেব?

শুরু চাপার পর স্ক্রিন লাল হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ড পর, প্রতিবার আলাদা সময়ে, সেটা সবুজ হয়। সবুজ দেখামাত্র ট্যাপ করো। সবুজ হওয়ার আগেই ট্যাপ করলে বেশি তাড়াতাড়ি লেখা আসে আর সেই রাউন্ড আবার দিতে হয়, তাই অনুমান করে লাভ নেই।

পাঁচ রাউন্ড শেষে পাঁচটা সময়, তার গড় আর সেরাটা দেখানো হয়। গড়টাই তোমার আসল রেজাল্ট, কারণ একবার ভাগ্যে ভালো হতে পারে, পাঁচবার নয়।

কত মিলিসেকেন্ড হলে ভালো বলা যায়?

লেভেলগুলো এভাবে ভাগ করা, আর প্রতিটির সাথে বাস্তব জীবনে সেটা কেমন তার একটা তুলনা:

  • ১৮০-এর নিচে সুপারহিউম্যান: বিপিএলে শর্ট লেগে দাঁড়ানো ফিল্ডারের রিফ্লেক্স
  • ১৮০ থেকে ২২০ বিদ্যুৎগতি: এলাকার সেরা ক্যারম বা পাবজি খেলোয়াড়
  • ২২০ থেকে ২৬০ দ্রুত: মনোযোগী, হাত স্থির, সকালে চা খাওয়া অবস্থা
  • ২৬০ থেকে ৩২০ গড়পড়তা মানুষ: বেশিরভাগ মানুষ প্রথমবার এখানেই
  • ৩২০-এর ওপরে ঘুমঘুম বা স্লথ মোড: রাত জেগে সিরিজ দেখার পরের সকাল

ফোন না ল্যাপটপ, কোথায় রেজাল্ট ভালো আসে?

টাচস্ক্রিন আর মাউস দুটোরই নিজস্ব দেরি আছে, সাধারণত ২০ থেকে ৫০ মিলিসেকেন্ড, আর সেটা তোমার সময়ের সাথে যোগ হয়। পুরোনো বা ল্যাগি ফোনে সংখ্যাটা বড় দেখাবে, ১২০ হার্জ স্ক্রিনে ছোট। তাই বন্ধুর সাথে তুলনা করতে চাইলে একই ডিভাইসে পরপর দিলে সবচেয়ে ন্যায্য হয়।

আঙুল স্ক্রিনের ওপর ঝুলিয়ে রাখো, ফোনটা টেবিলে রাখো আর ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যাপ বন্ধ করো। এই তিনটায় সাধারণত ২০-৩০ মিলিসেকেন্ড কমে।

গেমার আর ক্রিকেটপ্রেমীরা কেন বারবার এই টেস্ট দেয়?

কারণ সংখ্যাটা ছোট, স্পষ্ট আর তর্ক করার মতো। ফ্রি ফায়ার বা পাবজির স্কোয়াডে কে সবচেয়ে দ্রুত হেডশট দেয় সেই তর্ক মিটাতে কেউ এই লিংক ছুঁড়ে দেয়, আর তারপর সবাই পাঁচ মিনিট ধরে নিজের গড় কমানোর চেষ্টা করে। পাড়ার ক্রিকেট দলে উইকেটকিপার কে হবে সেটাও মজা করে এভাবে ঠিক হয়েছে, এমন গল্প কম নেই।

অফিসে দুপুরের পর ঝিমুনি এলে কলিগরা একবার দিয়ে দেখে কফি লাগবে কি না, আর ছাত্ররা পরীক্ষার আগের রাতে নিজেকে প্রমাণ করতে চায় যে মাথা এখনো জেগে আছে। ফলাফল খারাপ এলে সবাই ডিভাইসের দোষ দেয়, সেটাও খেলার অংশ।

রিঅ্যাকশন টাইম টেস্ট নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

গড় মানুষের রিঅ্যাকশন টাইম কত?

স্ক্রিনে রং বদলানোর মতো দৃশ্য সংকেতে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের সময় ২০০ থেকে ৩০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে, গড় প্রায় ২৫০। শব্দে সাড়া দেওয়া একটু দ্রুত হয়। কিশোর আর বিশের কোঠার মানুষ সাধারণত সবচেয়ে কম সময় পায়, তারপর ধীরে ধীরে বাড়ে।

রিঅ্যাকশন টাইম কি অনুশীলনে কমানো যায়?

কিছুটা। নিয়মিত খেলা, ভালো ঘুম আর মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাসে ১০ থেকে ৩০ মিলিসেকেন্ড কমতে দেখা যায়। তবে একটা শারীরিক সীমা আছে, স্নায়ুর সংকেত আর পেশির নড়াচড়ায় কিছু সময় লাগবেই। ক্লান্তি আর অমনোযোগ কাটালেই বেশিরভাগ উন্নতি আসে।

ফোনে রিঅ্যাকশন টাইম টেস্ট কি নির্ভুল?

তুলনার জন্য যথেষ্ট, ল্যাবের মাপের মতো নয়। টাচস্ক্রিনের নিজের দেরি, স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট আর ব্রাউজারের লোড সবই কয়েক মিলিসেকেন্ড যোগ করে। তাই নিজের সাথে নিজের বা একই ফোনে বন্ধুর সাথে তুলনা করো, আলাদা ডিভাইসের সংখ্যা সরাসরি মেলাতে যেও না।

বেশি তাড়াতাড়ি ট্যাপ করলে কী হয়?

সবুজ হওয়ার আগে ট্যাপ করলে সেই রাউন্ড গোনা হয় না, স্ক্রিনে বেশি তাড়াতাড়ি লেখা আসে আর তুমি আবার সেই রাউন্ড দাও। অপেক্ষার সময় প্রতিবার র‍্যান্ডম, তাই ছন্দ ধরে অনুমান করা যায় না। পাঁচটা বৈধ রাউন্ড হলেই রেজাল্ট আসে।

গেমারদের রিঅ্যাকশন টাইম কত হয়?

পেশাদার শুটার গেমাররা প্রায়ই ১৫০ থেকে ১৮০ মিলিসেকেন্ডে সাড়া দেয়, আর তারা উচ্চ রিফ্রেশ রেটের মনিটর আর কম দেরির মাউস ব্যবহার করে। সাধারণ মোবাইল গেমারের জন্য ২০০-এর আশেপাশে পেলেই সেটা বেশ ভালো, ১৮০-এর নিচে নামলে সুপারহিউম্যান লেভেল।

রাতে টেস্ট দিলে কি সময় বেশি আসে?

প্রায় সবারই আসে। ঘুম কম হলে, খাওয়ার পর ঝিমুনিতে বা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে থাকার পর রিঅ্যাকশন ২০ থেকে ৫০ মিলিসেকেন্ড পর্যন্ত ধীর হতে দেখা যায়। সকালে ফ্রেশ হয়ে একবার আর রাতে একবার দিলে পার্থক্যটা নিজেই টের পাবে।

আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো

সব কুইজ →